মূলত উৎপাদন ও সরবরাহ সংকটে এ ঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এশিয়া ও আফ্রিকার কয়েকশ কোটি মানুষের প্রধান খাদ্য চালের উৎপাদন কমে গেলে খাদ্যনিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। খবর রয়টার্স।
ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও সারের বৈশ্বিক বাজার চরম অস্থির হয়ে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য পরিবহন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সার ও জ্বালানি সরবরাহ কমে গেছে। ফলে থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মতো প্রধান চালরফতানিকারক দেশগুলোয় কৃষিকাজের খরচ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে। সেচ পাম্প চালানোর ডিজেল ও উচ্চ ফলন নিশ্চিত করা সারের দাম বাড়ায় অনেক কৃষক চাষাবাদ কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
অন্যদিকে ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশে পরিস্থিতি আরো জটিল হচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ চাল আমদানিকারক দেশ ফিলিপাইনের উৎপাদন প্রায় ৬০ লাখ টন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি নিয়ে কড়াকড়ি শুরু হলে দেশটি বড় ধরনের খাদ্য সংকটে পড়তে পারে। পাশাপাশি যোগ হয়েছে এল নিনোর প্রভাব। বছরের দ্বিতীয় ভাগে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অতিরিক্ত গরম ও খরা দেখা দিতে পারে, যা ফসলের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
থাইল্যান্ডের কৃষকরা জানিয়েছেন, সার ও জ্বালানির খরচ বাড়লেও তারা ধানের সঠিক দাম পাচ্ছেন না। ফলে অনেক কৃষক সারের ব্যবহার অর্ধেক করে দিয়েছেন, যার প্রভাব পড়বে ফলনে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানিয়েছে, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরান সংকটের সমাধান না হলে বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহ পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। চালের বৈশ্বিক সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।